সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন
এই মুহুর্তে ঢাকার শোবিজে সবচেয়ে আলোচিত নাম অনন্ত জলিল-বর্ষা। বলা ভুল হবে না, সমালোচনায় জর্জরিত এই তারকা দম্পতি। একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করে তারা সব শ্রেণির দর্শকের বিরাগভাজন হচ্ছেন। ঘটনার শুরু ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত তাদের সিনেমা ‘দিন : দ্য ডে’ নিয়ে। শুরুতেই তারা বলে আসছেন, এই ছবি এ যাবৎকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। যার বাজেট ১০০ কোটির ঊর্ধ্বে। ইরান-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিটি নিয়ে দর্শকেরও আগ্রহ ছিল। অনন্ত বরাবরই বিগ বাজেটের সিনেমা করেন, আধুনিক টেকনলজি ব্যবহার করেন তার সিনেমায় এ কথা সবাই স্বীকার করবেন। এতদিন তাদের সমালোচনা হতো স্রেফ দুটি কারণে। প্রথমত এত বড় আয়োজনের ছবিগুলোতে অনন্ত-বর্ষার দুর্বল অভিনয়, পোশাক এবং দুজনেরই উচ্চারণ দুর্বলতা। এবারও সেসব নিয়ে হাসি-তামাশা কম হয়নি। তবে নিজেদের ছবিকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে অনন্ত-বর্ষা গণমাধ্যমে একের পর এক যে ধরনের বক্তব্য পেশ করতে থাকেন তাতে বিষয়টি অন্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এর জেরেই গত ১৮ জুলাই তাদের আয়োজিত স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে তেমন কোনো তারকাকেই পাওয়া যায় না। অনন্ত ঘোষণা দেন, দেশের প্রথম সারির ৭৪ জন তারকা শিল্পীকে তার ‘দিন : দ্য ডে’ সিনেমা দেখার দাওয়াত দিয়েছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, যথাসময়ে অনন্ত-বর্ষা সিনেপ্লেক্সে হাজির হলেও এই নায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে আসেননি তেমন কেউই। তবে অনন্ত জলিল সিনেমা শুরু হওয়ার আগে বলেছিলেন, সবাই পথে, আসছেন। তবে সিনেমা শেষ হয়ে গেলেও আর কোনো শিল্পীকে দেখা যায়নি। সিনেমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে স্থান ত্যাগ করেছেন অনন্ত-বর্ষা।
সেদিন থেকেই ফেইসবুকে অনেক তারকা শিল্পী তাদের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন, অনন্ত-বর্ষা নিজেদের ছবি চালানোর জন্য যা করছেন তা মোটেই সমীচীন নয়। এর পরদিনই মুখ খোলেন দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। অনন্ত তার ঘোষণায় বলেন, ছবি দেখানোর জন্য সুচন্দা, আলমগীর, ফারুক, ববিতা, সোহেল রানা, ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, শাকিব খান, ইমন, নিরব, বাপ্পি চৌধুরী, আরিফিন শুভ, সিয়ামসহ অনেককেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু ববিতা বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। ববিতা আরও বলেন, ‘আমাদের তিন বোনের কারও সঙ্গে জলিল সাহেবের কথাই হয়নি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কথা না বলে ফেইসবুকে এভাবে নাম লিখে দেওয়ার তো কোনো মানে হয় না। এই ধরনের মিথ্যাচার মোটেও ভালো নয়। আমি কিছুদিন পরই দেশের বাইরে ছেলের কাছে যাব, তাই এখন অনেক কাজ। অনেক ব্যস্ততা। কোথা থেকে এলো সিনেমা হলে সিনেমা দেখব, এগুলো তো মিথ্যা কথা। আমাদের নাম ব্যবহার করে ফেইসবুকে এই ধরনের কথা ছড়ানোর মানে কী! এই জন্যই না আজকাল আমি কারও সঙ্গে কথা বলতে চাই না। এগুলো দেখলে খুবই খারাপ লাগে। এভাবে কেউ মিথ্যা কথা বলতে পারে! দিস ইজ নট গুড।’
ববিতার পর অনন্তর ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অঞ্জনাও। তিনি ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনার এই ডায়ালগ শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত হয়ে গেছি, বিশেষ করে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বলতে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? আপনি আবার বলেছেন, এ দেশে এর আগে এ রকম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি বা কোনো শিল্পী এ রকমভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করেনি। এই বিষয়টা একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? মিস্টার অনন্ত জলিল আপনি হয়তো জানেন না আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগেই অসংখ্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে আমি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছি। সেখানে তুরস্ক, ইরাক, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও হংকংসহ পাকিস্তানের আরও নিজস্ব ৩টি ভাষা উর্দু, পাঞ্জবি, পশতু ভাষার ব্যবসাসফল বহু চলচ্চিত্রে সুনামের সঙ্গে আমি অভিনয় করেছি। বাংলাদেশ থেকে ববিতা আপা, আমি, রোজিনা ও চম্পা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য কাজ করেছি। কিন্তু সর্বাধিক কাজ একমাত্র আমি করেছি। তাই কিছু বলার আগে একটু ভেবে নেবেন আর বাংলা চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্পর্কে কিছুটা অনুধাবন করবেন। শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে আপনার কাছে- এদেশের চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জেনে তারপর আপনি আপনার মতো প্রকাশ করবেন।’ বিশিষ্ট খল অভিনেতা ডিপজল বলেন, ‘সিনেমা নিয়ে অবাস্তব প্রচার-প্রচারণা না চালানোই ভালো।’
এর আগেও অনেক কা- ঘটান অনন্ত-বর্ষা। পরিচালক অনন্য মামুনের ‘সাইকো’ ছবিটিও মুক্তি পেয়েছে ঈদে। তাকে নিয়ে অনন্ত বলেন, ‘তাকে পেলে কান ধরে উঠবস করাব!’ ঈদের আরেক ছবি ‘পরাণ’-এর নায়ক শরিফুল রাজকে নিয়ে বর্ষা মন্তব্য করেন, ‘তাকে তো চিনি একজন নায়িকার স্বামী (পরীমণি) হিসেবে।’ এখানেই ক্ষ্যান্ত দেননি এই নায়িকা। চিত্রনায়িকা অপু বিশ^াস সন্তান পেটে রেখে আড়ালে চলে যান, পরীমণি মদ-গাঁজাসহ ধরা পড়েন, বিদ্যা সিনহা মিম নাকি বিয়ের পোশাকও স্পন্সর নিয়েছে- এসব ব্যক্তিগত ও অশ্লীল আক্রমণ করে নিজেকে সবার চেয়ে সেরা প্রমাণ করতে চান!